কয়রা ডেস্ক : তালায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে দণি-পশ্চিমাঞ্চলের ত্রাস, পূর্ববাংলা কমিউনিষ্ট পার্টি (এম,এল) জনযুদ্ধের বিদ্যুৎ বাহিনীর প্রধান বিদ্যুৎ বাছাড়সহ ২জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে । ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি, রাম দা ও গ্রীল ভাঙ্গার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান হাফিজুর রহমান জানান, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩ টার সময় তালা থানার এস আই মো: মোজাফফার রহমান ও এস আই মো: নাজমূল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ টহলকালে তালার মহান্দী সড়কের পার্শ্বে লণ ঘোষের আমবাগানে এক দল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সংবাদ পায়। ডাকাতরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের ল্য করে তারা গুলিবর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। ১৫/২০ মিনিট গুলি বিনিময়ের পর ডাকাতরা পিছু হঠলে ঘটনাস্থলে তল্লাশী চালিয়ে পুলিশ ২টি লাশ, একটি ওয়ান শুটার বন্দুক, একটি দেশী পিস্তল, রাম দা , ৪টি বোমা, তাজা গুলি ২টি, গ্রীল কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করে ।
ওসি জানান, এলাকাবাসীর মাধ্যমে নিহত দু’ব্যক্তির পরিচয় জানা গেছে তাদের নাম বিদ্যুৎ বাছাড় (৪৫) পিতা মৃত: কানাই লাল বাছাড়, গ্রাম-মাগুরাডাঙ্গা ও তালহা (২২) পিতা-নুরুল ইসলাম গ্রাম-সুজনশাহা উভয় উপজেলা তালা। নিহত বিদ্যুৎ বাছাড় দণি-পশ্চিমাঞ্চলের ত্রাস সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী। তার ককয়রা ডেস্ক নামে তালা থানায় ১৪টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে ডাকাতি ৫টি, অস্ত্র উদ্ধার মমলা ৪টি, হত্যা প্রচেষ্টা মামলা ৫টি এবং ৪২বছর সাজাপ্রাপ্ত জামিনে মুক্ত আসামী । নিহত তালহা (২২) শিবির নেতা তার বিরুদ্ধে তালা থানায় নাশকতা মামলায় রয়েছে। তালহা হাজতে থাকাকালে বিদ্যুৎ বাছাড়ের সাথে পরিচয় হয়। জেলাখানায় বসে শিবির নেতা পূর্ববাংলা জনযুদ্ধ এম এল বাহিনীতে যোগদান করে। বিদ্যুৎ বাছাড় হাজত থেকে গত বছরের ১১ডিসেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে সুজন শাহা এলাকার দাশ পাড়ায় অবস্থানকালে তার সাথে ছিল তালহা। সেখান থেকে একাধিক স্থানে অস্ত্রধারী সংগঠনকে গতিশীল করতে তৎপরতা চালাচ্ছিল । বিগত কয়েক মাস পূর্ব হতে এলাকায় তার দলীয় সদস্যদের ঐক্যবদ্ধকালে গত ডিসেম্বর মাসের ৩ ও ৪ তারিখে একাধিক পত্রিকায় তালার পল্লীতে চরমপন্থী দলের ফের তৎপরতা, প্রশাসনের হস্তপে কামনা শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে। এই বাহিনী নারী ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ঘের দখল, হত্যা, ভাড়াটিয়া খুনীসহ শত অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল। তালার প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের লালনকারী এক গডফাদার এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের আইনি সহয়তা প্রদানের নামে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত করাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে, এম, আরিফুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্য সাতীরা মর্গে প্রেরণ করা হয়। এ সংক্রান্তে এসআই মোজাফ্ফর হোসেন বাদী হয়ে সরকারী কাজে বাধা প্রদান, ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণ এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে তিনটি মামলা দায়ের করেছেন।